
চট্টগ্রাম‚ ৮ই মার্চ ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে শৈশবের স্মৃতি‚ আবেগ ও পারিবারিক ভালোবাসার অনন্য দলিল হিসেবে রচিত ‘সোনালি শৈশবের আলপনা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদে অবস্থিত শাহ মাহমুদিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট কবি ও শিক্ষক মাওলানা হেদায়ত উল্লাহ-এর তৃতীয় গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
বইটি লেখকের প্রথম পুত্র সাফওয়ান আদিব-এর প্রথম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রচিত‚ যেখানে শৈশবের উজ্জ্বল মুহূর্ত‚ পারিবারিক স্নেহ ও মানবিক মূল্যবোধের সংমিশ্রণ তুলে ধরা হয়েছে।
উদ্বোধনী আয়োজন ও অতিথিদের বক্তব্য:
উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—
মাওলানা আমিনুল ইসলাম‚ উপাধ্যক্ষ‚ বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা‚ চট্টগ্রাম
মাওলানা ড. মুহাম্মদ আব্দুল জলিল‚ প্রভাষক‚ বায়তুশ শরফ আদর্শ কামিল (অনার্স-মাস্টার্স) মাদ্রাসা‚ চট্টগ্রাম
মুঈনুদ্দীন মজিদী‚ সুপার‚ শাহ মাহমুদিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা‚ আগ্রাবাদ‚ চট্টগ্রাম
সাংবাদিক সোহেল তাজ-সহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা মাওলানা হেদায়ত উল্লাহ-র সাহিত্যকর্মের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তার লেখনীকে নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণাদায়ক হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা বলেন‚ ‘সোনালি শৈশবের আলপনা’ শুধুমাত্র একটি গ্রন্থ নয়; এটি শৈশবের সরলতা‚ ভালোবাসা ও মানবিক অনুভূতির এক চিত্রপট‚ যা পাঠকদের মন ছুঁয়ে যাবে।
কবি হেদায়ত উল্লাহ: সাহিত্য অঙ্গনে এক প্রতিশ্রুতিশীল নাম
এর আগে মাওলানা হেদায়ত উল্লাহ ‘মানবতার আর্তনাদ’ এবং ‘মানুষ হওয়ার স্বপ্ন’ নামে দুটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন‚ যা পাঠকমহলে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। তিনি একজন প্রতিশ্রুতিশীল লেখক‚ যিনি ধর্ম‚ সংস্কৃতি ও সমাজের নানা দিক নিয়ে গবেষণাধর্মী লেখালিখি করে থাকেন।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী মাওলানা হেদায়ত উল্লাহ তার শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞাকে লেখনীর মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। তার সাহিত্যকর্মে ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধের গভীরতা প্রতিফলিত হয়‚ যা পাঠকদের চিন্তার জগতে নতুন মাত্রা যোগ করে।
বই উন্মোচন ও সমাপ্তি:
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সোনালি শৈশবের আলপনা’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। অতিথিদের হাতে বই তুলে দেওয়া হয় এবং তারা বইটির প্রশংসা করেন।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন‚ বইটি নতুন প্রজন্মের পাঠকদের শৈশবের মূল্যবান স্মৃতি ও পারিবারিক বন্ধনের গুরুত্ব অনুধাবনে সহায়তা করবে।
এই সাহিত্য আয়োজনটি চট্টগ্রামের সাহিত্যপ্রেমী‚ শিক্ষক ও গণমাধ্যমকর্মীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়‚ যেখানে সাহিত্য‚ সংস্কৃতি ও মানবিকতার চর্চা নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়। ‘সোনালি শৈশবের আলপনা’ যে পাঠকহৃদয়ে স্থায়ী প্রভাব ফেলবে‚ সে বিষয়ে উপস্থিত সবাই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।