
ছাদেকুর রহমান (স্টাফ রিপোর্টার) :
মহেশখালী উপজেলায় মুঠোফোন অ্যাপসের মাধ্যমে অনলাইন জুয়া ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।লোভে পড়ে বিভিন্ন বয়সের মানুষ,বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণেরা এই জুয়ায় বেশি আসক্ত হচ্ছেন।জুয়ার নেশায় বুঁদ হয়ে সর্বস্ব হারাতে বসেছেন তাঁদের অনেকেই।এ কারণে বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি ও দাম্পত্য কলহ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে,হোয়ানকে’র কেরুনতলী এলাকা থেকে শুরু করে উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোয় এই জুয়া বিস্তার লাভ করছে।সহজে প্রচুর টাকা উপার্জনের লোভে পড়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন বয়সের অসংখ্য মানুষ এই জুয়ায় জড়িয়ে পড়ছেন।তরুণদের অনেকেই কৌতূহলবশত এই খেলা শুরুর পরেই নেশায় পড়ে যাচ্ছেন।প্রথমে লাভবান হয়ে পরবর্তী সময় খোয়াচ্ছেন হাজার হাজার টাকা।
বর্তমান সময় অনলাইন জুয়া মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে।আমাদের তরুণ প্রজন্মের হাতে স্মার্টফোন থাকায় তারা সহজে জড়িয়ে পড়ছে এই ভয়ানক ফাঁদে।এক সময় এই খেলা শহরে থাকলেও স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতায় এটা এখন প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে এ অনলাইন জুয়া।
অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,স্মার্টফোনে নির্ধারিত কয়েকটি অ্যাপস ডাউনলোড করে সেখানে জুয়া খেলা চলে।বিভিন্ন নামের প্রায় ২০ থেকে ২৫টির মতো অ্যাপসে সবচেয়ে বেশি জুয়া খেলা হয়।এসব অ্যাপসে ১০ টাকা থেকে শুরু করে যেকোনো অঙ্কের টাকা দিয়ে শুরু করা যায়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন,তাঁর ছেলে স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ালেখা করে।কিন্তু অনলাইন জুয়ার কারণে পড়ালেখায় মনোযোগ নেই।কৌশলে টাকা নিয়ে এটা খেলে।কোনো ভাবেই বিরত রাখা যাচ্ছে না।ছেলের ভবিষ্যৎ অনলাইন জুয়া নষ্ট করে দিচ্ছে।
জানাযায়,এসব অ্যাপসের বেশির ভাগই পরিচালনা করা হচ্ছে রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে।বাংলাদেশে এগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধি (এজেন্ট) রয়েছে।দেশের প্রায় প্রতিটি বাজারেই রয়েছে এই ধরনের এজেন্ট।তারা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে জুয়ায় অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিদের কাছ থেকে টাকা গ্রহণ বা প্রদান করে থাকে।এজেন্টরা বিদেশি অ্যাপস পরিচালনাকারীদের কাছ থেকে হাজারে কমপক্ষে ৪০ টাকা কমিশন পায়।এজেন্টদের মাধ্যমেই বিদেশে টাকা পাচার হয়।জুয়ায় বিনিয়োগ থেকে কোটি কোটি টাকা পাচার হয়ে চলে যাচ্ছে বিদেশে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে,মোবাইল ব্যাংকিং খাতে দেশে নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা ২১ কোটি ২৪ লাখ ২০ হাজার ৩৩০ জন।২০২২-২৩ অর্থবছরে বিকাশ, নগদ, রকেট, এম ক্যাশসহ মোট ১৫টি প্রতিষ্ঠান মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৯ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন করেছে।
আর ওই অর্থবছরে জাতীয় বাজেট পেশ করা হয় ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ, জাতীয় বাজেটের প্রায় দেড় গুণের বেশি টাকা লেনদেন হয়েছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে।
মহেশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকান্ত চক্রবর্তী জানান,অনলাইন জুয়ার ব্যাপারে তাঁরা শুনেছেন।এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছেন।জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।