
নিজস্ব প্রতিবেদক।
ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মহেশখালী কলেজে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবারের এইচএসসি’র ফলাফলে ধস নেমেছে।
মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকাশিত ফলাফলের পরিসংখ্যানে এই তথ্য জানা গেছে পাশের হার ৪১.৯৫% এবং জিপিএ পেয়েছে মাত্র ২ জন। এমন বিপর্যয়ের পিছনে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা কলেজ প্রশাসনের তদারকির অভাবকেই দায়ী করছেন। এদিকে ঐতিহ্যবাহী কলেজের এমন ফলাফলে অসন্তোষ জানিয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
ফলাফল সূত্রে জানা যায়, কলেজ থেকে ৫৭৩ জন পরীক্ষা দিয়ে পাশ করে মাত্র ২৩৭ জন এবং জিপিএ-৫ মাত্র ২ জন। ৩৩৪ জন পেল এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়। যেখানে সরকারি বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজ থেকে ৪৭৮ জন পরীক্ষা দিয়ে পাশ করে ২৭৭ জন এবং জিপিএ-৫ পাই ৮ জন, সেখানে মহেশখালী কলেজ মাত্র ২ জন! মহেশখালী কলেজের শিক্ষকরাও অভিজ্ঞতা সম্পূর্ণ, এখান কার শিক্ষকরাও বিসিএস ক্যাডারের একিই সুযোগ-সুবিধা পাই। তাহলে কলেজ প্রশাসন কি করে? এখানে লেখাপড়ার মান দিন দিন তাহলে কি হারিয়ে যাচ্ছে?
এই বিষয়ে সিনিয়র শিক্ষার্থী নেজাম উদ্দিন ও অনন্যা বলেন, কলেজ প্রশাসনই একমাত্র দায়ী, কারণ তারা ছাত্র-ছাত্রীদের পড়াশোনার প্রতি কোনো চাপ সৃষ্টি করে না। যেখানে ক্লাসে বসতে পারে ১০০ জন, সেখানে ভর্তি নেয় ৫০০ থেকে ৮০০ জনের অধিক, গত বিদায় অনুষ্ঠানে ডিজে গান পরিবেশ নিয়ে বেশি ব্যতীত।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক শাহেদ মন্নান বলেন, গতবারের তুলনায় একটু কমে গেছে, রেজাল্ট খারাপ হওয়ার পিছনে তিনি মাধ্যমিক পরীক্ষার সব বিষয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ না করতে পারাকেও দায়ী করছে। তিনি বলেন রেজাল্ট খারাপের বিষয়ে আমরা চিন্তিত। এটা নিয়ে আমরা এনালাইসিস করবো এবং একাডেমি কাউন্সিলে মিটিং করবো। এটার কারণ খুজবো এবং উত্তরণের চেষ্টা করবো। ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের জিপিএ দেখে এবং ভালো জিপিএ শিক্ষার্থীদের ভর্তি করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে ছাত্র প্রতিনিধিদের এবং এলাকার মানুষের চাপ আছে ফলে সম্ভব হচ্ছে না, তারপরও আমরা চেষ্টা করতেছি।