
| মিজানুর রহমান
তারিফ হাসান হোয়ানক ইউনিয়নের বড়ছড়ার বাসিন্দা। তিনি এলাকার সবচেয়ে ভদ্র ও নম্র ছেলেদের মধ্যে একজন। তারিফ পাঁচ ভাই এক বোনের মধ্যে সবার বড়। তিনি জানান, দীর্ঘদিন যাবৎ ইসলামের মৌলিক বিষয়গুলো পালন করে আসছে। বিশেষ করে রমজানে মাসে তার রোজা রাখতে খুব পছন্দের। ছোট কাল থেকে শান্তির ধর্ম ইসলামের হুকুম আহাকামের প্রতি তিনি প্রেমে পড়ে যান। তিনি স্থির করেন ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে মুসলিম হয়ে আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ পালন পালন করবেন। পরবর্তীতে তিনি ২০১৮ সালের মে মাসের ২২তারিখ স্থানীয় বিজ্ঞ আলেমের কাছে শাহাদাহ পাঠ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। আর তিনি হয়ে যান একনিষ্ঠ মুসলিম।
শান্তির ধর্ম ইসলাম গ্রহণ করার পর থেকে তার জীবনে চলে আসে এক অমানিশার অন্ধকার। প্রথমে তার পরিবারের পক্ষ থেকে তার উপর ঋণের বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হয়। বিভিন্ন সময়ে পরিবারের তরফ থেকে প্রাণ নাশের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি কিছুদিন আগে তার বাবার মৃত্যুর শেষ কীর্তিতেও তার পরিবার তাকে অংশগ্রহণ করতে দেয়নি।
তার জীবনে সবচেয়ে বড় ট্রাজেডি, তারিফ হোয়ানক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ নৈশপ্রহরীর দায়িত্বে পালন করে আসছেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার কারণে বিনা নোটিশে তাকে চাকরিতে না আসার জন্য বারণ করা হয়। তার চাকরি ফিরে পেতে তিনি তৎকালিন সাবেক সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিক বরাবর তদবির করেও তার চাকরি ফিরে পাননি। তারিফ সাবেক সাংসদের কাছে বত্রিশ বার ধারস্ত হয়েছেন, সাবেদ সাংসদ আশ্বাস দিয়ে শুধু কালকেপন করে গেছেন কিন্তু কোন সমাধান দেননি। তার চাকরি খোয়ানোর ফিছনে সবচেয়ে বড় খলনায়কের ভূমিকা রাখেন প্রতিষ্ঠানটির তৎকালিন সভাপতি মনোরঞ্জন দে, সাবেক সভাপতি ও আওয়ামীলীগ ০৫ নং ওয়ার্ড সাধারণ সম্পাদক নিপেন্দ্র দে এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কমল হরি পাল।
তিনি চাকরি হারানো পর থেকে তার ছোট সংসারে দুই শিশু নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তার মাথার উপর এখনো ৯৫ হাজার টাকার ঋণের বোঝা। তারিফ তার চাকরি ফিরিয় পেতে চায়।
স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রতি তার আকুল আবেদন, তারা যেন তার চাকরি ফিরিয়ে দেয়। হোয়ানক ইউনিয়নের ছাত্রসমাজও তার চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য স্কুল কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ রেখেছে।