সর্বশেষ...

ফয়সাল আমিন: মানবতার আলোকবর্তিকা, মহেশখালীর এক উজ্জ্বল নক্ষত্র

 

একজন মানুষ কতটা নিঃস্বার্থভাবে সমাজের জন্য কাজ করতে পারেন? কতটা আন্তরিক হলে নিজের সব অর্জন অন্যদের কল্যাণে বিলিয়ে দিতে পারেন? মহেশখালীর তরুণ ফয়সাল আমিন যেন তার এক অনন্য উদাহরণ। তিনি কেবল একজন সফল উদ্যোক্তা নন, বরং একজন মানবতাবাদী, সমাজ সংস্কারক এবং অনুপ্রেরণার উৎস। অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবসায়িক সাফল্যের শিখরে উঠে তিনি ভুলে যাননি নিজের শেকড়, ভুলে যাননি মহেশখালীর সেই দুঃখী, অসহায় মানুষদের কথা, যারা তার মতো একজন আলোর দিশারি খুঁজছিল।

প্রবাস থেকে মহেশখালীর মাটিতে ফিরে আসা
ফয়সাল আমিনের জন্ম এক দরিদ্র পরিবারে, যেখানে প্রতিদিনের জীবনে সংগ্রাম ছিল নিত্যসঙ্গী। অভাব আর সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে বেড়ে ওঠা এই তরুণ কখনো স্বপ্ন দেখা বন্ধ করেননি। ভাগ্যক্রমে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়া গমন করেন এবং সেখানেই নিজের কর্মজীবন শুরু করেন। কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেন এম কে রোফিং অস্ট্রেলিয়া নামের একটি সফল ব্যবসা। কিন্তু তিনি কেবল নিজের জীবন গড়ার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকলেন না, বরং মহেশখালীর জন্য কিছু করার সংকল্প নিয়ে কাজ শুরু করলেন।

মানবিক কার্যক্রম: শুধু দান নয়, দায়িত্ববোধ
ফয়সাল আমিন মনে করেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়ানো শুধু দয়া নয়, এটি একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব। তাই তিনি কখনো দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের চোখে আলো ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করেছেন, কখনো কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করেছেন।

বিশেষ করে সোনাদিয়ার মতো অবহেলিত এলাকার শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের জন্য তার অবদান অসাধারণ। তিনি সেখানে স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন, যার লক্ষ্য শিক্ষার আলোকে সোনাদিয়াকে আলোকিত করা। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, একদিন এই প্রাথমিক বিদ্যালয়কে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে উন্নীত করবেন, যাতে এখানকার শিক্ষার্থীরা দূরবর্তী স্থানে না গিয়ে নিজের এলাকাতেই শিক্ষালাভ করতে পারে।

দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো
যখনই কোনো দুর্যোগ নেমে এসেছে, ফয়সাল আমিন ছিলেন মহেশখালীর মানুষের প্রথম ভরসা। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড বা মহামারির সময় তিনি কখনো বস্তায় বস্তায় ত্রাণ পাঠিয়েছেন, কখনো ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি নির্মাণে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। তার কাছে সাহায্য মানে শুধু অর্থ সহায়তা নয়, বরং মানুষের দুঃখ-কষ্ট ভাগ করে নেওয়া।

একবার এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় মহেশখালীর এক প্রতিবন্ধী কিশোর আরাফাত। তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল শোচনীয়। ফয়সাল আমিন সেই পরিবারের দায়িত্ব নেন। শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, আরাফাতের ছোট ভাইয়ের পড়াশোনার খরচও তিনি বহন করার প্রতিশ্রুতি দেন। সেইসঙ্গে আরাফাতের দুই বোনের বিয়ের সম্পূর্ণ ব্যয়ভারও নেন। এটি ছিল কেবল একটি ঘটনা; এমন বহু উদাহরণ রয়েছে যেখানে তিনি নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

মাদকমুক্ত যুবসমাজ ও ক্রীড়া উন্নয়ন
মহেশখালীর তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহ গ্রাস থেকে রক্ষা করতে ফয়সাল আমিন নিয়মিত ক্রীড়া ও সংস্কৃতির প্রসারে কাজ করছেন। তিনি নিজ অর্থায়নে মহেশখালীতে ওয়ার্ডভিত্তিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছেন, যা স্থানীয় যুবকদের মাদক থেকে দূরে সরিয়ে খেলাধুলায় মনোযোগী হতে উৎসাহিত করেছে।
ফয়সাল আমিন বিশ্বাস করেন, তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিলে তারা কখনো মাদকের পথ বেছে নেবে না। তাই তিনি ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও শিক্ষার উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করছেন।

রাজনৈতিক স্বার্থ নয়, নিঃস্বার্থ সমাজসেবা
বাংলাদেশে অনেক সমাজসেবক আছেন যারা কোনো না কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে জনকল্যাণমূলক কাজ করেন। কিন্তু ফয়সাল আমিন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তিনি কোনো রাজনৈতিক ফায়দার জন্য কাজ করছেন না, বরং শুধুমাত্র মহেশখালীর মানুষের কল্যাণেই কাজ করছেন। তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলে নাম লেখাননি, বরং তিনি বিশ্বাস করেন— প্রকৃত পরিবর্তন আসে নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে।

তার ভাষায়, “আমি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজ করছি না। আমি শুধু চাই, মহেশখালীর মানুষ ভালো থাকুক। আমি চাই, আমার এলাকার শিশুরা ভালোভাবে পড়াশোনা করুক, আমার ভাইয়েরা যেন মাদকের ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পায়।”

উদ্যোক্তা থেকে সমাজসংস্কারক: এক নতুন দৃষ্টান্ত
অনেকেই বিদেশে গিয়ে নিজের জীবন সুন্দরভাবে সাজানোর স্বপ্ন দেখে, কিন্তু ফয়সাল আমিনের স্বপ্ন ছিল ভিন্ন। তিনি বিদেশের মাটিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েও নিজ জন্মভূমির উন্নতির কথা ভোলেননি। অস্ট্রেলিয়ায় এম কে রোফিং প্রতিষ্ঠার পরও তার হৃদয়ের টান মহেশখালীতে।
দেশে ফিরে তিনি শুধুমাত্র মানবিক কাজে নিজেকে জড়াননি, বরং নতুন প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতেও কাজ শুরু করেছেন। ফয়সাল’স ডাইন নামের একটি রেস্টুরেন্ট চালু করে তিনি স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন, যাতে তারা আত্মনির্ভরশীল হতে পারে।

পরবর্তী লক্ষ্য: আরও বড় কিছু
ফয়সাল আমিন থেমে যেতে চান না। তিনি চান মহেশখালীকে দেশের অন্যতম উন্নত দ্বীপ হিসেবে গড়ে তুলতে। তার পরিকল্পনা রয়েছে, মহেশখালীতে আরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও আধুনিক বাণিজ্যকেন্দ্র গড়ে তোলার। তিনি চান, মহেশখালীর কোনো মানুষ যেন আর শিক্ষা বা চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার বা চট্টগ্রামের ওপর নির্ভর করতে না হয়।

তিনি বলেন, “আমি স্বপ্ন দেখি একদিন মহেশখালী হবে দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ এলাকা। আমি চাই, মহেশখালীর মানুষ নিজেদের সমস্যার সমাধান নিজেরাই করুক।”

একজন তরুণের জন্য অনুপ্রেরণা
ফয়সাল আমিনের গল্প কেবল একজন সফল উদ্যোক্তার গল্প নয়, এটি একজন মানবিক যোদ্ধার গল্প। এটি সেই গল্প, যেখানে একজন তরুণ নিজের সীমিত সামর্থ্য নিয়ে সমাজের পরিবর্তন আনতে চেয়েছেন এবং সফল হয়েছেন।
তার এই আত্মত্যাগ, উদ্যম ও দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমান প্রজন্মের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা। তিনি প্রমাণ করেছেন, সত্যিকার অর্থেই কিছু করার ইচ্ছে থাকলে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।

মহেশখালীর অসংখ্য মানুষ আজ ফয়সাল আমিনের কল্যাণে নতুন আশার আলো দেখছে। তিনি কেবল দান করেননি, তিনি ভালোবাসা দিয়েছেন, দায়িত্ব নিয়েছেন। তার মতো মানুষেরাই সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যায়, একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করে।

ফয়সাল আমিন প্রমাণ করেছেন, সৎ ইচ্ছা আর পরিশ্রম থাকলে একজন মানুষ পুরো সমাজের চেহারা বদলে দিতে পারেন। তার এই মহতী উদ্যোগ কেবল মহেশখালীর জন্য নয়, বরং গোটা দেশের জন্যই এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
এই প্রজন্মের তরুণদের উচিত তার পথ অনুসরণ করা, মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করা। কারণ, একজন মানুষের প্রকৃত সাফল্য কেবল নিজের জন্য অর্জনে নয়, বরং অন্যের জন্য কিছু করতে পারায়।

ছয় দিনে মহেশখালীর জন্য ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: ফয়সাল আমিনের মানবিক বিপ্লব

সময় সীমিত, কিন্তু লক্ষ্য বিশাল—এই নীতিতেই যেন ছয় দিনের সফরে মহেশখালীর জন্য একের পর এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সমাজসেবক ও উদ্যোক্তা মুহাম্মদ ফয়সাল আমিন। নিজের কর্মজীবনের ব্যস্ততা থেকে সময় বের করে ২০ ফেব্রুয়ারি দেশে আসেন তিনি, আর ২৭ ফেব্রুয়ারি ফিরে যান অস্ট্রেলিয়ায়। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি তার প্রিয় মহেশখালীর মানুষের জন্য একের পর এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা কেবল তার মানবিক মনোভাবেরই প্রতিচ্ছবি নয়, বরং এ প্রজন্মের তরুণদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা।

খানকাহ শরিফের উন্নয়ন: ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেওয়া
ধর্মীয় শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠানকে সবসময়ই গুরুত্ব দেন ফয়সাল আমিন। তাই মহেশখালীর পুটিবিলা খানকাহ শরিফের বার্ষিক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ১৫ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করেছেন। এই অর্থ খানকাহ শরিফের ছাদ ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহার হবে।
তিনি বিশ্বাস করেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু ধর্মচর্চার জায়গা নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা ও নৈতিকতার কেন্দ্রও। তাই এসব প্রতিষ্ঠান যেন আরও উন্নত হয়, সেজন্য তিনি নিয়মিতভাবে অনুদান প্রদান করেন।

ক্রীড়া উন্নয়নে এক অনন্য ভূমিকা
তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে ক্রীড়ার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই ফয়সাল আমিন খেলাধুলার প্রসারে সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। ছয় দিনের মধ্যেই তিনি মহেশখালীতে একাধিক ক্রীড়া টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন— আন্তঃউপজেলা সংস্কার আন্দোলন কর্তৃক আয়োজিত টি-১৫ টুর্নামেন্টের ফাইনাল, মাতারবাড়িতে ক্রিকেট ইতিহাসের সর্ববৃহৎ আন্তঃউপজেলা টি-২০ ফাইনাল ম্যাচ, পুটিবিলা নাইট শর্ট পিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী, মহেশখালীর পশ্চিম পাড়ায় ওয়ার্ডভিত্তিক ক্রিকেট ফাইনাল ম্যাচ।

মাতারবাড়ির একমাত্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়ন
মাতারবাড়ির মেয়েরা যেন মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ পায়, সেজন্য তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন বিদ্যালয়ের মাঠ সংস্কার ও দুটি নতুন ক্লাসরুম নির্মাণের। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সামগ্রী প্রদানের ঘোষণাও দিয়েছেন। মহেশখালীর মেয়েদের উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে নিতে তার এই প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

ঘড়িভাঙ্গা জামে মসজিদে ২৫ লক্ষ টাকা অনুদান
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে তিনি যে কতটা আন্তরিক, তা বোঝা যায় তার আরও একটি উদ্যোগ থেকে। তিনি কুতুবজোম ঘড়িভাঙ্গা সাগরপাড়ের জামে মসজিদের ছাদ ঢালাইয়ের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করেছেন।

এছাড়াও, ছয় দিনে তিনি অসংখ্য রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন, ঢাকায় গিয়ে বেশ কয়েকজন অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন, দুঃস্থদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন এবং মহেশখালীর বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পে অবদান রেখেছেন।
ফয়সাল আমিন: নতুন প্রজন্মের জন্য এক মহান অনুপ্রেরণা

আজকের সময়ে, যখন অধিকাংশ মানুষ ব্যক্তিগত উন্নতির পেছনে ছুটছেন, তখন ফয়সাল আমিন দেখিয়ে দিচ্ছেন—একজন ব্যক্তি চাইলেই সমাজের জন্য কতটা কিছু করতে পারেন।

তিনি কেবল দান করেন না, তিনি দায়িত্ব নেন। তিনি শুধু সাহায্য করেন না, তিনি সমস্যার সমাধান করতে চান। তার এই উদ্যোগ শুধু মহেশখালীর জন্যই নয়, বরং সারা বাংলাদেশের তরুণদের জন্য এক উদাহরণ হয়ে থাকবে।
আমরা যদি সত্যিই সমাজের উন্নয়ন চাই, তবে ফয়সাল আমিনের মতো মানুষের অনুসরণ করা উচিত। কারণ তিনি প্রমাণ করেছেন—সৎ ইচ্ছা আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে একজন মানুষ সত্যিকার অর্থেই পরিবর্তন আনতে পারেন।

ফয়সাল আমিনের ঠিকানা:
মহেশখালী পৌরসভার চরপাড়া এলাকার সন্তান মুহাম্মদ ফয়সাল আমিন বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। তিনি এম কে রোফিং অস্ট্রেলিয়া এবং ফয়সাল’স ডাইন রেস্টুরেন্ট-এর চেয়ারম্যান।

ফয়সাল আমিন তার ছয় দিনের সফরে মহেশখালীর জন্য যা করেছেন, তা অনেকের পক্ষেই বছরের পর বছর ধরে সম্ভব নয়। তার এই আত্মত্যাগ, উদারতা, এবং নিঃস্বার্থ সমাজসেবা সত্যিই বিস্ময়কর। আমরা তার মতো আরও অনেক সমাজসেবকের প্রত্যাশা করি, যারা ব্যক্তিগত সাফল্যের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষের কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করবেন।

ফয়সাল আমিন: মহেশখালীর জন্য এক নিবেদিত প্রাণ

মহেশখালীতে একজন তরুণ সমাজসেবকের নাম ফয়সাল আমিন। নিরলসভাবে মানুষের জন্য কাজ করছেন, স্বীকৃতি বা প্রতিদানের আশা ছাড়াই। রাজনীতি কিংবা জনপ্রতিনিধিত্ব নয়, তিনি বিশ্বাস করেন সদিচ্ছা থাকলেই সমাজের জন্য ভালো কিছু করা সম্ভব। শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, দাতব্য কাজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তার অবদান প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে তিনি আরও বড় পরিসরে এই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চান।

দৈনিক বাঁকখালীর নিজস্ব প্রতিবেদক আবুল বশর পারভেজ তার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ফয়সাল আমিনের স্বপ্ন, পরিকল্পনা ও দর্শনের বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।

স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রশ্ন: এ কাজের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আর কী করার স্বপ্ন রয়েছে?

ফয়সাল আমিন: “আমার এই কাজ অব্যাহত রাখতে চাই। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই যাত্রা যেন কখনও থেমে না যায়, সেটাই আমার লক্ষ্য।” তিনি মনে করেন, ভালো কাজের কোনো গণ্ডি নেই। সমাজের প্রতিটি স্তরে কিছু করার সুযোগ থাকে, শুধু প্রয়োজন সদিচ্ছার। তাই তিনি থেমে থাকতে চান না, যতটুকু সম্ভব ততটুকু দিয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে চান।

রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে ভাবনা
প্রশ্ন: ভবিষ্যতে স্থানীয়, উপজেলা বা জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে? রাজনৈতিক দলের হয়ে নাকি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চান?

ফয়সাল আমিন: “আমি নির্বাচন করার জন্য কাজ করিনি। ভালো লাগে তাই কাজ করে যাচ্ছি। নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো চিন্তা করিনি, কারণ আমি লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত। ভবিষ্যতে করবো কিনা তাও জানি না। আর আমি কোনো রাজনৈতিক দল পছন্দ করি না।” তিনি বলেন, রাজনীতির বাইরে থেকেও সমাজের জন্য কাজ করা সম্ভব। জনপ্রতিনিধি না হয়েও মানুষের সেবা করা যায়, সেটাই তিনি বিশ্বাস করেন।

অনুদান ও স্বীকৃতি প্রসঙ্গে
প্রশ্ন: এ যাবৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেওয়ার ক্ষেত্রে দলিল বা রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে লিখিতভাবে দাতা বা প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে পদবী লাভ করেছেন কি?

ফয়সাল আমিন: “না, আমি কোনো পদবী লাভ করিনি। কারণ আমি চাইনি।” তিনি মনে করেন, স্বীকৃতি নয়, বরং কাজটাই আসল। তিনি চান তার অনুদানগুলো যথাযথভাবে মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হোক।

নিজের নামে প্রতিষ্ঠান গড়ার পরিকল্পনা
প্রশ্ন: ভবিষ্যতে নিজের নামে, পিতা-মাতার নামে কোনো শিক্ষা, ধর্মীয় বা দাতব্য প্রতিষ্ঠান করার পরিকল্পনা আছে কি?

ফয়সাল আমিন: “ফয়সাল আমিন ফাউন্ডেশন খোলার ইচ্ছা আছে।” তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বহু উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। ভবিষ্যতে এগুলোকে আরও সংগঠিত ও কার্যকর করতে চান। তার পরিকল্পনায় একটি ফাউন্ডেশন রয়েছে, যা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তায় কাজ করবে।

তরুণ প্রজন্মের জন্য বার্তা
প্রশ্ন: আপনার কাজের মাধ্যমে মহেশখালীর আপামর জনতা ও তরুণ প্রজন্মকে কী বার্তা পৌঁছে দিতে চান?

ফয়সাল আমিন:”তরুণ প্রজন্ম ও আপামর জনতাকে বলতে চাই, নিজেদের জীবন গড়ার পাশাপাশি যেন অসহায় মানুষের জীবন গড়তে দায়িত্ব নেয় বা পাশে দাঁড়ায়। ভালো কাজ করতে জনপ্রতিনিধি হওয়া লাগে না, অনেক টাকা-পয়সার মালিকও হতে হয় না। শুধু ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট। পজিটিভ চিন্তাধারার অধিকারী হওয়া দরকার, আর ভালো কাজের অবশ্যই সমর্থন ও প্রশংসা করা উচিত।”

ফয়সাল আমিনের চিন্তাভাবনা, স্বপ্ন, এবং তার অসামান্য উদ্যোগ মহেশখালীর মানুষের জন্য নিঃসন্দেহে এক অনুপ্রেরণা। রাজনীতির গণ্ডির বাইরে থেকেও যে সমাজের জন্য অনেক কিছু করা সম্ভব, তা তিনি প্রমাণ করে চলেছেন। তার একেকটি উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ: আবুল বশর পারভেজ, নিজস্ব প্রতিবেদক, সব সময় নিউজ।

নিউজ পোর্টাল প্রয়োজন?

5 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

জনপ্রিয় সংবাদ...

ফয়সাল আমিন: মানবতার আলোকবর্তিকা, মহেশখালীর এক উজ্জ্বল নক্ষত্র

 

একজন মানুষ কতটা নিঃস্বার্থভাবে সমাজের জন্য কাজ করতে পারেন? কতটা আন্তরিক হলে নিজের সব অর্জন অন্যদের কল্যাণে বিলিয়ে দিতে পারেন? মহেশখালীর তরুণ ফয়সাল আমিন যেন তার এক অনন্য উদাহরণ। তিনি কেবল একজন সফল উদ্যোক্তা নন, বরং একজন মানবতাবাদী, সমাজ সংস্কারক এবং অনুপ্রেরণার উৎস। অস্ট্রেলিয়ায় ব্যবসায়িক সাফল্যের শিখরে উঠে তিনি ভুলে যাননি নিজের শেকড়, ভুলে যাননি মহেশখালীর সেই দুঃখী, অসহায় মানুষদের কথা, যারা তার মতো একজন আলোর দিশারি খুঁজছিল।

প্রবাস থেকে মহেশখালীর মাটিতে ফিরে আসা
ফয়সাল আমিনের জন্ম এক দরিদ্র পরিবারে, যেখানে প্রতিদিনের জীবনে সংগ্রাম ছিল নিত্যসঙ্গী। অভাব আর সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে বেড়ে ওঠা এই তরুণ কখনো স্বপ্ন দেখা বন্ধ করেননি। ভাগ্যক্রমে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য অস্ট্রেলিয়া গমন করেন এবং সেখানেই নিজের কর্মজীবন শুরু করেন। কঠোর পরিশ্রম ও নিষ্ঠার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করেন এম কে রোফিং অস্ট্রেলিয়া নামের একটি সফল ব্যবসা। কিন্তু তিনি কেবল নিজের জীবন গড়ার মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকলেন না, বরং মহেশখালীর জন্য কিছু করার সংকল্প নিয়ে কাজ শুরু করলেন।

মানবিক কার্যক্রম: শুধু দান নয়, দায়িত্ববোধ
ফয়সাল আমিন মনে করেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের পাশে দাঁড়ানো শুধু দয়া নয়, এটি একজন সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব। তাই তিনি কখনো দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের চোখে আলো ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য কাজ করেছেন, কখনো কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসার সম্পূর্ণ ব্যয়ভার বহন করেছেন।

বিশেষ করে সোনাদিয়ার মতো অবহেলিত এলাকার শিক্ষাবঞ্চিত শিশুদের জন্য তার অবদান অসাধারণ। তিনি সেখানে স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন, যার লক্ষ্য শিক্ষার আলোকে সোনাদিয়াকে আলোকিত করা। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, একদিন এই প্রাথমিক বিদ্যালয়কে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে উন্নীত করবেন, যাতে এখানকার শিক্ষার্থীরা দূরবর্তী স্থানে না গিয়ে নিজের এলাকাতেই শিক্ষালাভ করতে পারে।

দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো
যখনই কোনো দুর্যোগ নেমে এসেছে, ফয়সাল আমিন ছিলেন মহেশখালীর মানুষের প্রথম ভরসা। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ড বা মহামারির সময় তিনি কখনো বস্তায় বস্তায় ত্রাণ পাঠিয়েছেন, কখনো ক্ষতিগ্রস্তদের ঘরবাড়ি নির্মাণে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন। তার কাছে সাহায্য মানে শুধু অর্থ সহায়তা নয়, বরং মানুষের দুঃখ-কষ্ট ভাগ করে নেওয়া।

একবার এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় মহেশখালীর এক প্রতিবন্ধী কিশোর আরাফাত। তার পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল শোচনীয়। ফয়সাল আমিন সেই পরিবারের দায়িত্ব নেন। শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, আরাফাতের ছোট ভাইয়ের পড়াশোনার খরচও তিনি বহন করার প্রতিশ্রুতি দেন। সেইসঙ্গে আরাফাতের দুই বোনের বিয়ের সম্পূর্ণ ব্যয়ভারও নেন। এটি ছিল কেবল একটি ঘটনা; এমন বহু উদাহরণ রয়েছে যেখানে তিনি নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন।

মাদকমুক্ত যুবসমাজ ও ক্রীড়া উন্নয়ন
মহেশখালীর তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহ গ্রাস থেকে রক্ষা করতে ফয়সাল আমিন নিয়মিত ক্রীড়া ও সংস্কৃতির প্রসারে কাজ করছেন। তিনি নিজ অর্থায়নে মহেশখালীতে ওয়ার্ডভিত্তিক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছেন, যা স্থানীয় যুবকদের মাদক থেকে দূরে সরিয়ে খেলাধুলায় মনোযোগী হতে উৎসাহিত করেছে।
ফয়সাল আমিন বিশ্বাস করেন, তরুণদের সঠিক দিকনির্দেশনা দিলে তারা কখনো মাদকের পথ বেছে নেবে না। তাই তিনি ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও শিক্ষার উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করছেন।

রাজনৈতিক স্বার্থ নয়, নিঃস্বার্থ সমাজসেবা
বাংলাদেশে অনেক সমাজসেবক আছেন যারা কোনো না কোনো রাজনৈতিক স্বার্থে জনকল্যাণমূলক কাজ করেন। কিন্তু ফয়সাল আমিন সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম। তিনি কোনো রাজনৈতিক ফায়দার জন্য কাজ করছেন না, বরং শুধুমাত্র মহেশখালীর মানুষের কল্যাণেই কাজ করছেন। তিনি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলে নাম লেখাননি, বরং তিনি বিশ্বাস করেন— প্রকৃত পরিবর্তন আসে নিঃস্বার্থভাবে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে।

তার ভাষায়, “আমি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কাজ করছি না। আমি শুধু চাই, মহেশখালীর মানুষ ভালো থাকুক। আমি চাই, আমার এলাকার শিশুরা ভালোভাবে পড়াশোনা করুক, আমার ভাইয়েরা যেন মাদকের ভয়াবহতা থেকে মুক্তি পায়।”

উদ্যোক্তা থেকে সমাজসংস্কারক: এক নতুন দৃষ্টান্ত
অনেকেই বিদেশে গিয়ে নিজের জীবন সুন্দরভাবে সাজানোর স্বপ্ন দেখে, কিন্তু ফয়সাল আমিনের স্বপ্ন ছিল ভিন্ন। তিনি বিদেশের মাটিতে প্রতিষ্ঠিত হয়েও নিজ জন্মভূমির উন্নতির কথা ভোলেননি। অস্ট্রেলিয়ায় এম কে রোফিং প্রতিষ্ঠার পরও তার হৃদয়ের টান মহেশখালীতে।
দেশে ফিরে তিনি শুধুমাত্র মানবিক কাজে নিজেকে জড়াননি, বরং নতুন প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতেও কাজ শুরু করেছেন। ফয়সাল’স ডাইন নামের একটি রেস্টুরেন্ট চালু করে তিনি স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছেন, যাতে তারা আত্মনির্ভরশীল হতে পারে।

পরবর্তী লক্ষ্য: আরও বড় কিছু
ফয়সাল আমিন থেমে যেতে চান না। তিনি চান মহেশখালীকে দেশের অন্যতম উন্নত দ্বীপ হিসেবে গড়ে তুলতে। তার পরিকল্পনা রয়েছে, মহেশখালীতে আরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও আধুনিক বাণিজ্যকেন্দ্র গড়ে তোলার। তিনি চান, মহেশখালীর কোনো মানুষ যেন আর শিক্ষা বা চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার বা চট্টগ্রামের ওপর নির্ভর করতে না হয়।

তিনি বলেন, “আমি স্বপ্ন দেখি একদিন মহেশখালী হবে দেশের অন্যতম সমৃদ্ধ এলাকা। আমি চাই, মহেশখালীর মানুষ নিজেদের সমস্যার সমাধান নিজেরাই করুক।”

একজন তরুণের জন্য অনুপ্রেরণা
ফয়সাল আমিনের গল্প কেবল একজন সফল উদ্যোক্তার গল্প নয়, এটি একজন মানবিক যোদ্ধার গল্প। এটি সেই গল্প, যেখানে একজন তরুণ নিজের সীমিত সামর্থ্য নিয়ে সমাজের পরিবর্তন আনতে চেয়েছেন এবং সফল হয়েছেন।
তার এই আত্মত্যাগ, উদ্যম ও দৃষ্টিভঙ্গি বর্তমান প্রজন্মের জন্য এক অনন্য অনুপ্রেরণা। তিনি প্রমাণ করেছেন, সত্যিকার অর্থেই কিছু করার ইচ্ছে থাকলে কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।

মহেশখালীর অসংখ্য মানুষ আজ ফয়সাল আমিনের কল্যাণে নতুন আশার আলো দেখছে। তিনি কেবল দান করেননি, তিনি ভালোবাসা দিয়েছেন, দায়িত্ব নিয়েছেন। তার মতো মানুষেরাই সমাজকে এগিয়ে নিয়ে যায়, একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করে।

ফয়সাল আমিন প্রমাণ করেছেন, সৎ ইচ্ছা আর পরিশ্রম থাকলে একজন মানুষ পুরো সমাজের চেহারা বদলে দিতে পারেন। তার এই মহতী উদ্যোগ কেবল মহেশখালীর জন্য নয়, বরং গোটা দেশের জন্যই এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।
এই প্রজন্মের তরুণদের উচিত তার পথ অনুসরণ করা, মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করা। কারণ, একজন মানুষের প্রকৃত সাফল্য কেবল নিজের জন্য অর্জনে নয়, বরং অন্যের জন্য কিছু করতে পারায়।

ছয় দিনে মহেশখালীর জন্য ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: ফয়সাল আমিনের মানবিক বিপ্লব

সময় সীমিত, কিন্তু লক্ষ্য বিশাল—এই নীতিতেই যেন ছয় দিনের সফরে মহেশখালীর জন্য একের পর এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী সমাজসেবক ও উদ্যোক্তা মুহাম্মদ ফয়সাল আমিন। নিজের কর্মজীবনের ব্যস্ততা থেকে সময় বের করে ২০ ফেব্রুয়ারি দেশে আসেন তিনি, আর ২৭ ফেব্রুয়ারি ফিরে যান অস্ট্রেলিয়ায়। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই তিনি তার প্রিয় মহেশখালীর মানুষের জন্য একের পর এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন, যা কেবল তার মানবিক মনোভাবেরই প্রতিচ্ছবি নয়, বরং এ প্রজন্মের তরুণদের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা।

খানকাহ শরিফের উন্নয়ন: ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেওয়া
ধর্মীয় শিক্ষা ও প্রতিষ্ঠানকে সবসময়ই গুরুত্ব দেন ফয়সাল আমিন। তাই মহেশখালীর পুটিবিলা খানকাহ শরিফের বার্ষিক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ১৫ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করেছেন। এই অর্থ খানকাহ শরিফের ছাদ ঢালাইয়ের কাজে ব্যবহার হবে।
তিনি বিশ্বাস করেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু ধর্মচর্চার জায়গা নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা ও নৈতিকতার কেন্দ্রও। তাই এসব প্রতিষ্ঠান যেন আরও উন্নত হয়, সেজন্য তিনি নিয়মিতভাবে অনুদান প্রদান করেন।

ক্রীড়া উন্নয়নে এক অনন্য ভূমিকা
তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে ক্রীড়ার গুরুত্ব অপরিসীম। তাই ফয়সাল আমিন খেলাধুলার প্রসারে সবসময়ই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। ছয় দিনের মধ্যেই তিনি মহেশখালীতে একাধিক ক্রীড়া টুর্নামেন্টের পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন— আন্তঃউপজেলা সংস্কার আন্দোলন কর্তৃক আয়োজিত টি-১৫ টুর্নামেন্টের ফাইনাল, মাতারবাড়িতে ক্রিকেট ইতিহাসের সর্ববৃহৎ আন্তঃউপজেলা টি-২০ ফাইনাল ম্যাচ, পুটিবিলা নাইট শর্ট পিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণী, মহেশখালীর পশ্চিম পাড়ায় ওয়ার্ডভিত্তিক ক্রিকেট ফাইনাল ম্যাচ।

মাতারবাড়ির একমাত্র বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের উন্নয়ন
মাতারবাড়ির মেয়েরা যেন মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ পায়, সেজন্য তিনি উদ্যোগ নিয়েছেন বিদ্যালয়ের মাঠ সংস্কার ও দুটি নতুন ক্লাসরুম নির্মাণের। শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ক্রীড়া সামগ্রী প্রদানের ঘোষণাও দিয়েছেন। মহেশখালীর মেয়েদের উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে নিতে তার এই প্রচেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

ঘড়িভাঙ্গা জামে মসজিদে ২৫ লক্ষ টাকা অনুদান
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে তিনি যে কতটা আন্তরিক, তা বোঝা যায় তার আরও একটি উদ্যোগ থেকে। তিনি কুতুবজোম ঘড়িভাঙ্গা সাগরপাড়ের জামে মসজিদের ছাদ ঢালাইয়ের জন্য ২৫ লক্ষ টাকা অনুদান প্রদান করেছেন।

এছাড়াও, ছয় দিনে তিনি অসংখ্য রোগীর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন, ঢাকায় গিয়ে বেশ কয়েকজন অসুস্থ ব্যক্তির চিকিৎসার খোঁজখবর নিয়েছেন, দুঃস্থদের আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন এবং মহেশখালীর বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পে অবদান রেখেছেন।
ফয়সাল আমিন: নতুন প্রজন্মের জন্য এক মহান অনুপ্রেরণা

আজকের সময়ে, যখন অধিকাংশ মানুষ ব্যক্তিগত উন্নতির পেছনে ছুটছেন, তখন ফয়সাল আমিন দেখিয়ে দিচ্ছেন—একজন ব্যক্তি চাইলেই সমাজের জন্য কতটা কিছু করতে পারেন।

তিনি কেবল দান করেন না, তিনি দায়িত্ব নেন। তিনি শুধু সাহায্য করেন না, তিনি সমস্যার সমাধান করতে চান। তার এই উদ্যোগ শুধু মহেশখালীর জন্যই নয়, বরং সারা বাংলাদেশের তরুণদের জন্য এক উদাহরণ হয়ে থাকবে।
আমরা যদি সত্যিই সমাজের উন্নয়ন চাই, তবে ফয়সাল আমিনের মতো মানুষের অনুসরণ করা উচিত। কারণ তিনি প্রমাণ করেছেন—সৎ ইচ্ছা আর কঠোর পরিশ্রম থাকলে একজন মানুষ সত্যিকার অর্থেই পরিবর্তন আনতে পারেন।

ফয়সাল আমিনের ঠিকানা:
মহেশখালী পৌরসভার চরপাড়া এলাকার সন্তান মুহাম্মদ ফয়সাল আমিন বর্তমানে অস্ট্রেলিয়া প্রবাসী। তিনি এম কে রোফিং অস্ট্রেলিয়া এবং ফয়সাল’স ডাইন রেস্টুরেন্ট-এর চেয়ারম্যান।

ফয়সাল আমিন তার ছয় দিনের সফরে মহেশখালীর জন্য যা করেছেন, তা অনেকের পক্ষেই বছরের পর বছর ধরে সম্ভব নয়। তার এই আত্মত্যাগ, উদারতা, এবং নিঃস্বার্থ সমাজসেবা সত্যিই বিস্ময়কর। আমরা তার মতো আরও অনেক সমাজসেবকের প্রত্যাশা করি, যারা ব্যক্তিগত সাফল্যের গণ্ডি পেরিয়ে মানুষের কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করবেন।

ফয়সাল আমিন: মহেশখালীর জন্য এক নিবেদিত প্রাণ

মহেশখালীতে একজন তরুণ সমাজসেবকের নাম ফয়সাল আমিন। নিরলসভাবে মানুষের জন্য কাজ করছেন, স্বীকৃতি বা প্রতিদানের আশা ছাড়াই। রাজনীতি কিংবা জনপ্রতিনিধিত্ব নয়, তিনি বিশ্বাস করেন সদিচ্ছা থাকলেই সমাজের জন্য ভালো কিছু করা সম্ভব। শিক্ষা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, দাতব্য কাজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তার অবদান প্রশংসনীয়। ভবিষ্যতে তিনি আরও বড় পরিসরে এই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে চান।

দৈনিক বাঁকখালীর নিজস্ব প্রতিবেদক আবুল বশর পারভেজ তার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে ফয়সাল আমিনের স্বপ্ন, পরিকল্পনা ও দর্শনের বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।

স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রশ্ন: এ কাজের মাধ্যমে ভবিষ্যতে আর কী করার স্বপ্ন রয়েছে?

ফয়সাল আমিন: “আমার এই কাজ অব্যাহত রাখতে চাই। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই যাত্রা যেন কখনও থেমে না যায়, সেটাই আমার লক্ষ্য।” তিনি মনে করেন, ভালো কাজের কোনো গণ্ডি নেই। সমাজের প্রতিটি স্তরে কিছু করার সুযোগ থাকে, শুধু প্রয়োজন সদিচ্ছার। তাই তিনি থেমে থাকতে চান না, যতটুকু সম্ভব ততটুকু দিয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে চান।

রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে ভাবনা
প্রশ্ন: ভবিষ্যতে স্থানীয়, উপজেলা বা জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা আছে? রাজনৈতিক দলের হয়ে নাকি স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চান?

ফয়সাল আমিন: “আমি নির্বাচন করার জন্য কাজ করিনি। ভালো লাগে তাই কাজ করে যাচ্ছি। নির্বাচন নিয়ে এখনো কোনো চিন্তা করিনি, কারণ আমি লেখাপড়া নিয়ে ব্যস্ত। ভবিষ্যতে করবো কিনা তাও জানি না। আর আমি কোনো রাজনৈতিক দল পছন্দ করি না।” তিনি বলেন, রাজনীতির বাইরে থেকেও সমাজের জন্য কাজ করা সম্ভব। জনপ্রতিনিধি না হয়েও মানুষের সেবা করা যায়, সেটাই তিনি বিশ্বাস করেন।

অনুদান ও স্বীকৃতি প্রসঙ্গে
প্রশ্ন: এ যাবৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে অনুদান দেওয়ার ক্ষেত্রে দলিল বা রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে লিখিতভাবে দাতা বা প্রতিষ্ঠাতা হিসাবে পদবী লাভ করেছেন কি?

ফয়সাল আমিন: “না, আমি কোনো পদবী লাভ করিনি। কারণ আমি চাইনি।” তিনি মনে করেন, স্বীকৃতি নয়, বরং কাজটাই আসল। তিনি চান তার অনুদানগুলো যথাযথভাবে মানুষের কল্যাণে ব্যবহৃত হোক।

নিজের নামে প্রতিষ্ঠান গড়ার পরিকল্পনা
প্রশ্ন: ভবিষ্যতে নিজের নামে, পিতা-মাতার নামে কোনো শিক্ষা, ধর্মীয় বা দাতব্য প্রতিষ্ঠান করার পরিকল্পনা আছে কি?

ফয়সাল আমিন: “ফয়সাল আমিন ফাউন্ডেশন খোলার ইচ্ছা আছে।” তিনি ব্যক্তিগত উদ্যোগে বহু উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। ভবিষ্যতে এগুলোকে আরও সংগঠিত ও কার্যকর করতে চান। তার পরিকল্পনায় একটি ফাউন্ডেশন রয়েছে, যা দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তায় কাজ করবে।

তরুণ প্রজন্মের জন্য বার্তা
প্রশ্ন: আপনার কাজের মাধ্যমে মহেশখালীর আপামর জনতা ও তরুণ প্রজন্মকে কী বার্তা পৌঁছে দিতে চান?

ফয়সাল আমিন:”তরুণ প্রজন্ম ও আপামর জনতাকে বলতে চাই, নিজেদের জীবন গড়ার পাশাপাশি যেন অসহায় মানুষের জীবন গড়তে দায়িত্ব নেয় বা পাশে দাঁড়ায়। ভালো কাজ করতে জনপ্রতিনিধি হওয়া লাগে না, অনেক টাকা-পয়সার মালিকও হতে হয় না। শুধু ইচ্ছাশক্তিই যথেষ্ট। পজিটিভ চিন্তাধারার অধিকারী হওয়া দরকার, আর ভালো কাজের অবশ্যই সমর্থন ও প্রশংসা করা উচিত।”

ফয়সাল আমিনের চিন্তাভাবনা, স্বপ্ন, এবং তার অসামান্য উদ্যোগ মহেশখালীর মানুষের জন্য নিঃসন্দেহে এক অনুপ্রেরণা। রাজনীতির গণ্ডির বাইরে থেকেও যে সমাজের জন্য অনেক কিছু করা সম্ভব, তা তিনি প্রমাণ করে চলেছেন। তার একেকটি উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সাক্ষাৎকার গ্রহণ: আবুল বশর পারভেজ, নিজস্ব প্রতিবেদক, সব সময় নিউজ।

নিউজ পোর্টাল প্রয়োজন?

5 1 vote
Article Rating
Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Oldest
Newest Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments

সর্বশেষ...

জনপ্রিয় সংবাদ...